Social Initiative Model (Wide Garden and Complementary Method)
সামাজিক উদ্যেগের পদ্ধতি:
গুচ্ছ পদ্ধতির ও বড় বাগান পদ্ধতির সংগঠন কাঠামো-মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
প্রচলিত সংগঠন কাঠামোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কেন্দ্রীভূত। কিন্তু সামাজিক আন্দোলনের প্রস্তাবিত সংগঠন কাঠামো হচ্ছে বিকেন্দ্রীভূত এবং গুচ্ছাকার। এ ধরনের সংগঠন কাঠামোর সহজ একটা উদাহরণ হলো মৌচাক। মৌচাকের কোনো কেন্দ্র নাই। এর প্রত্যেক প্রকোষ্ঠ একটা আরেকটার সাথে সম্পর্কিত। ফলে মৌচাকটি ক্রমান্বয়ে বড় হতে পারে। অথবা ধরা যাক, বিভিন্ন রং ও আকারের অনেকগুলো বেলুন একসাথে রাখা হয়েছে। বেলুনগুলোর প্রত্যেকটি স্বতন্ত্র হলেও সুতার একটি গিঁটের মাধ্যমে পরষ্পর সংযুক্ত।
মৌচাকের পরষ্পর সংযুক্ত কিন্তু স্বতন্ত্র প্রকোষ্ঠ গুচ্ছের মতো কোনো সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিটি সেক্টরে নানামুখী সামাজিক সংগঠন ও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এই সব স্বতন্ত্র ব্যক্তি বা গ্রুপগুলোর সৃজনশীলতা ও দায়বোধের সর্বোচ্চ মাত্রার বিকাশকে বিবেচনা করলে সামাজিক আন্দোলনে ব্যক্তি-উদ্যোগের (Individual’s Entrepreneurship) দিকটাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। যে কোনো আদর্শনির্ভর সামাজিক আন্দোলনের জন্য এটি সমভাবে প্রযোজ্য।
উল্লেখ্য, সামাজিক আন্দোলনের এই বিকেন্দ্রীভূত সাংগঠনিক কাঠামো প্রশাসনিক ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। প্রশাসনিক দিক থেকে কোনো সংগঠন, বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় সংগঠনের ‘কমান্ড-লাইন’ অবশ্যই এককেন্দ্রিক হতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। আর আনুগত্য করো তোমাদের মধ্যকার দায়িত্বশীলদেরকে। [সূরা নিসা : ৫৯]
এখানে দায়িত্বশীল বলতে কোনো জনপদের সরকারী কর্মকর্তাকে বুঝানো হয়েছে। কোনো সংগঠনের নেতৃত্বসহ যে কোনো সংস্থা ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দের হুকুম, ন্যায় লঙ্ঘন না হওয়া পর্যন্ত মান্য করা র্কতব্য।
বৈশিষ্ট্য
ব্যক্তি বা কোনো গ্রুপ নিজ নিজ আওতাধীন ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে সামাজিক আন্দোলন করবে। প্রত্যেকটা স্বতন্ত্র সংগঠনের মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রায় প্রত্যক্ষ যোগাযোগ হতে পারে কিন্তু তাদের মধ্যে পারস্পরিক সাংগঠনিক নির্ভরশীলতা যথাসম্ভব কম হওয়া উচিত। প্রচলিত সাংগঠনিক বৈশিষ্ট্যের অনেকটাই বিপরীত নতুন ধারার এই আন্দোলনে মানুষের আত্মপ্রীতির সহজাত বৈশিষ্ট্যকে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। মানুষের এই সহজাত আত্মপ্রীতির ইতিবাচক বহিঃপ্রকাশ হলো সৃজনশীলতা। আল্লামা ইকবালের ‘খুদীতত্ত্বে’ আল্লাহর খলিফা হিসেবে ব্যক্তি-মানুষের এই অপরিমিত সম্ভাবনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
আন্তঃযোগাযোগ
কথা উঠতে পারে, এ ধরনের সাংগঠিক কাঠামোতে শক্তির সুসামঞ্জস্যতা না হয়ে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। কিংবা সাংগঠনিক ঐক্যবদ্ধতার বাধ্যবাধকতা ছাড়া বিকেন্দ্রীভূত সংগঠনগুলো কিভাবে সামাজিক শক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে? এসব প্রশ্নের জবাব হলো, সংশ্লিষ্ট মৌলিক আদর্শগত বিষয়াদি এসব স্বতন্ত্র ও স্বাধীন সংগঠনগুলোর পারষ্পরিক যোগাযোগের ভিত্তি হবে। কারণ একই লক্ষ্যে পরিচালিত ব্যবস্থাগুলো সম-ধর্মী হতে বাধ্য। এর উদাহরণ হচ্ছে, নির্দিষ্ট একটি গন্তব্যে পৌঁছার উদ্দেশ্যে বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী যখন একই রাস্তায় অগ্রসর হয়, সবাই একই যানবাহনে না চড়া সত্ত্বেও তারা কিন্তু একই দিকে পরিচালিত হয়।
ব্যক্তি বা স্বতন্ত্র গ্রুপকেন্দ্রিক উদ্যোগের ফলে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এর ফলে তাদের মধ্যে যোগ্যতা ও নেতৃত্ব গড়ে উঠবে এবং একজন আরেকজনকে ছাড়িয়ে যাবে।
অথচ সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে তীব্র গতিতে ছুটে চলা সম্ভব নয়। এক দড়িতে বাঁধলে ঘোড়াগুলো ছুটতে পারবে না। এমনকি কোনো ঘোড়ার গাড়িতে একাধিক ঘোড়া ব্যবহার করলে সেগুলোও পরষ্পরের সাথে বাঁধা থাকে না। এক ছাঁচে সবাইকে চালানোর চেষ্টা, বিশেষ করে, সামাজিক আন্দোলনের জন্য কখনো ভালো পদ্ধতি নয়। সওদাগরী জাহাজই কেবলমাত্র নির্দিষ্ট রুট অনুসারে চলে, যুদ্ধ জাহাজ নয়।
সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে এই স্বতন্ত্র উদ্যোগগুলোর আদর্শিক বাধ্যবাধকতাই যখন মূখ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে তখন সেগুলি নিষ্ক্রিয় ও সর্বাত্মকবাদী সংগঠনমুখীতার পরিবর্তে আদর্শমুখী হিসাবে গড়ে উঠবে। সংগঠন হচ্ছে এক ধরনের formal structure। এ ধরনের কাঠামোতে যখন কাউকে এক ধরনের মান (standard)-এর অধিকারী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়, তখন বাস্তবে তাঁর ন্যূনতম মানের সর্বদা উপরে থাকার কথা। অথচ দেখা যায়, অধিকাংশ সনদপত্রধারী ‘শিক্ষিত’ আচার-আচরণ ও জ্ঞানগত মান প্রকৃতপক্ষে শিক্ষিত পর্যায়ে নাই। দেখা যায়, অনেক ‘আল্লামা’র সাথে জ্ঞানের কোনো দৃশ্যমান সংযোগ নাই। আদর্শের দোহাই দিয়ে তৎপরিবর্তে ‘আদর্শবাদী সংগঠন’ই প্রাধান্য পেলে জ্যামিতিক হারে ‘ক্যাডার বৃদ্ধি’ই ঘটে, বাঞ্ছিত সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবর্তন ঘটে না।
বলাবাহুল্য, নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে রিপোর্টভিত্তিক মানোন্নয়ন কখনো স্রষ্টাভীতির মাপকাঠি হতে পারে না। সর্বাবস্থায় র্ধৈয্যের সীমা যুদ্ধের ময়দান পর্যন্ত বিস্তৃত। র্ধমে ধৈর্যের এই অভিনব ব্যাপ্তির মতো স্রষ্টাভীতির সংজ্ঞাও অত্যন্ত ব্যাপক ও ব্যক্তির সামগ্রিক কর্মনির্ভর। কোনো ব্যক্তির ‘মান’ নির্ধারণ করার জন্য তার জীবনসঙ্গী, চলার পথের সাথী, প্রতিবেশী ও অধীনস্তদের মতামত ও মনোভাবকে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে।
আর্দশ-পছন্দ সামাজিক আন্দোলন ও সংগঠনসূহের মধ্যে সময়ে সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে ঐক্য গড়ে ওঠবে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ইস্যুটা যখন শেষ হয়ে যাবে তখন তারা আবার যার যার অব্স্থানে ফিরে যাবে। একই আদর্শের অনুসারীদের কোনো কোনো দল এগিয়ে যাবে। অন্যরা তাদের ন্যায় সংগত সমালোচনা করবে। মানুষ একই মুখ বার বার বা দীর্ঘ সময় ধরে দেখতে চায় না। মানুষের অন্তর্গত এই বৈচিত্র্যপ্রিয়তা ও কর্তৃপক্ষবিরোধী (anti-establishment) মনোভাবের কারণে সকল আর্দশের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে ‘ক্ষমতায় যাওয়া’র বর্তমান প্রবণতা স্পষ্টতই ভুল। সারকথা হলো, যতই আদর্শবাদী হোক সংগঠন ও আদর্শ যেনো একাত্ম না হয়ে যায় সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।
দৃশ্যমান মডেল
সর্বশেষ, প্রস্তাবিত সংগঠন কাঠামোর বিন্যাস-কাঠামোকে দুটি দৃশ্যমান উদাহরণের (Visual model) মাধ্যমে উপস্থাপন করা যায়। ধরা যাক, দুটি ছবির প্রথমটিতে দেখা যাচ্ছে একটা বড় গাছ (Single Giant Tree) যার অনেক শাখা-প্রশাখা আছে। কিন্তু আশপাশে আর কোনো গাছ নাই। সে একাই বেড়ে উঠেছে। ধর্মভিত্তিক, সামাজিক বা রাজনৈতিক ধাঁচের প্রচলিত সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও আন্দোলনসমূহ এই Giant Tree Model-এর। এর সুবিধা হচ্ছে, চারদিকে সমানতালে সংগঠনের অনেক শাখা গড়ে ওঠে এবং কেন্দ্র থেকে এককভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আর অসুবিধা হচ্ছে, এ রকম একটা এককেন্দ্রিক সংগঠন-বৃক্ষের শিকড়ে, গোঁড়ায় বা প্রধান কাণ্ডে কোনো সমস্যা হলে তা ডাল-লতা-পাতাসহ পুরো বৃক্ষটিতে ছড়িয়ে পড়ে।
এর পরিবর্তে এমন একটি ছবি কল্পনা করা যায়, যাতে রয়েছে নানা আকৃতির, বর্ণের ও অবস্থানের একটি বিস্তৃত বাগান (Wide Garden)। দেখা যাবে, এই বাগানের ছোট-বড় প্রত্যেক গাছই একই মাটি-আলো-বাতাস থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে যার যার মতো বেড়ে উঠছে ও ফল দিচ্ছে। এখানে প্রত্যেকেই স্বাধীন হওয়ায় একটি গাছ ভেঙ্গে পড়লেও বাগান নষ্ট হয়ে যায় না। বরং নতুন নতুন আরো গাছ বেড়ে ওঠে।
এই Wide Garden Model-কে ভিত্তি ধরে যদি সামাজিক সংগঠন ও আন্দোলন গড়ে তোলা হয় তাহলে সেটা টেকসই হবে। দ্বিরুক্তি সত্ত্বেও বলা যায়, এই কর্ম-কৌশলের ফলে মানুষের সহজাত প্রকাশধর্মী প্রতিভা ও বৈচিত্র্যপ্রিয়তাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে। সময়ের আবর্তনে যখন একটা আদর্শিক দলের চাহিদা ফুরিয়ে যাবে, তখন সম-আদর্শের দলগুলো থেকে যোগ্যতর একটা দল সেই স্থান পূরণ করে নেবে। এতে দল বা সংগঠনের পরিবর্তন হলেও আদর্শ সমুন্নত থাকবে। সব ডিম একই ঝুড়িতে রাখার সমূহ বিপদ থেকে বাঁচা যাবে।
আদর্শ এবং আদর্শের রূপায়ন হিসেবে যে সংগঠন, তাকে যদি আলাদা করা যায় এবং সংগঠন কাঠামো যদি প্লুরালিস্টিক ও ডাইভারসিফাইড করা যায়, তাহলে অবশ্যই একুশ শতকে একটি টেকসই সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠা, সফল হওয়া ও টিকে থাকা সম্ভব। আদর্শিক চেতনা ভিন্ন সকল সামাজিক বিষয়কেই নমনীয় ও পরিবর্তনযোগ্য হিসাবে গ্রহণ করতে হবে।
(সামান্য পরির্মাজন সহ)
The Role of Complementary Movement to Accelerate Mainstream Movement –Ahmed zobayer
Introduction
The idea of ‘complementary movement’ is not new in Social Movements (SM) both in Bangladesh and across the globe.
|
· A more complex division of labor is closely associated with the growth of economic output and trade, the rise of globalization, and the complexity of industrialization processes. · In a division of labor, the production process is broken down into a series of stages, and workers are assigned to particular stages. · Labor hierarchy is a very common feature of the modern workplace structure. · It improves productivity. |
Similar to the firm, SM can practice the theory of division of labour through complementary movements. In SM of Bangladesh, there is limited practice of complementary movement. In an SM, people have various academic backgrounds. Some people are highly talented and have expertise in some particular field of knowledge. Others might be skilled in Ethical Invitation activities using modern technologies. Moreover, some people have professional or academic orientations in such technical fields (i.e extreme secular environment, excellent academic performance, other socio-cultural environment) from where it becomes impossible for an individual to serve the mainstream activities. To get benefit from such individuals, the mainstream movement can assign only specific task which is congenial for them from their positions.
Importance of Complementary Movement
In a society, there are individuals from various academic, professional, socio-cultural, institutional backgrounds. It is almost impossible to bring all of them under the same umbrella using a single cloth. The lack of practicing complementary movement or division of labour undermines the potentials of the movement. For instance, someone might be skilled in writing news paper articles and employed as the finance secretary of a branch undermines the potentiality of the person. Likewise, a single person can not continue the activities of SM in a technical field although he alone has the expertise in that field. One of the better methods would be to organize all the technically experts of that field from the entire SM. They will form a special wing and serve the activities of the movement, suitable in the field they belong to. As a result, other secular people in the technical field no longer remain in the darkness. They become lightened by the activities of worker of Social Movement in that field. Unfortunately, SM in Bangladesh still remain behind to cover all the clusters of the society.
Characteristics of a Complementary Movement
The principles of a complementary movement are not highly differentiable with the principles of mainstream movement. The major difference is in their activities. The programs and formalities, reporting, responsibility, accountability and promotion of the people in complementary movement must be different from the mainstream social movement. The activities of children movement can be a good example in this context. Tthe knowledge movement has also set their own activities under this light. The specific activities of a complementary movement can not be developed over night. It can go through a trial and error mechanism. Although the existing complementary movements have activities different from the mainstream activities, yet the promotion and evaluation of the activists are not differentiated.
Conclusion
To get more output from the existing resources, division of labour or complementary movements through the distribution of specialized tasks among the people according to the relative expertise is very important in such a crucial stage, the entire SM is passing through. The concept discussed here is more of a theoretical and academic than the specific explanations. The explicit and precise complementary movements can be initiated based on the demand and availability of the resources. A scientific feasibility study can help in this regard.
Comments
Post a Comment